Korean

OldBoy Bangla Movie Review | OldBoy বাংলা রিভিউ0

এই Oldboy মুভিটার থিম অনেক ডিপ যার কারণে অনেকেই উল্টা বুঝে। তাদের প্রত্যেকের একটাই পয়েন্ট যে মুভিটা আমাদের সংস্কৃতির সাথে যায় না,এটা দেখে বমি আসে ব্লা ব্লা ব্লা। এই খানে আপনারা সবাই একটা ভুল করে ফেলেন। আমি একটু এক্সপ্লেইন করার চেষ্টা করবো এখন। এক্সপ্লেইন করার মূল কারণ যাতে এই শ্রেষ্ঠ থ্রিলার মুভিটি সবাই উপভোগ করতে পারেন। কোনো ফালতু রিজন দিয়ে যেনো মুভির মজা নষ্ট না হয়। যারা দেখেন নি এখনও তারা ভুলেও এই পোস্ট দেখবেন না।

#Highly_Spoiler_Alert

Movie name : Oldboy

Director : Park Chan-Wook

Genre : Thriller/Mystery

IMDb : 8.4/10

Personal Rating: 9.5/10

Running time : 120 minutes

Plot:

তো শুরুতেই দেখা যাবে Oh Dae Su নামের একলোক কে তার ৪র্থ জন্মদিনের দিন কিডন্যাপ করা হয়। তারপরে তাকে একটা ঘরে বন্দি করে রাখা হয়। কিন্তু সে জানে না তাকে কেনো আটকে রাখা হইসে। সে পালানোর পথ খুঁজতে থাকে। কিন্তু হটাৎ একদিন ১৫ বছর পরে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় বাইরে রেখে আশা হয়। সে নিজেকে প্রস্তুত করে যাতে এর প্রতিশোধ নিতে পারে। অল্প কয়দিনের মধ্যেই তার অপহরণকারী কে সে পেয়ে যায়। কিন্তু তাকে হত্যা করতে পারে না কারণ হত্যা করলে সে কারণ জানতে পারবে না।

এদিকে তার এক মেয়ের সাথে পরিচয় হয় যে তাকে এসবের কারণ খুঁজতে সাহায্য করে। তাদের মধ্যে অন্তরঙ্গতা ও ঘটে। অবশেষে অনেক খুঁজাখুঁজি এর পরে সে জানতে পারে অপহরণকারী আর সে এক ই স্কুলে পড়েছে। অপহরণকারী তার নিজের বোনকে ভালোবাসতো এবং সে একদিন তাদের কে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখে ফেলে। এর পর সে এটা সবাই কে জানিয়ে দেয়। আর এজন্যই অপহরণকারী বোন পানিতে ঝাঁপ দিয়ে মারা যায়। কিন্তু শুধু ১৫ বছর আটকে রাখাই তার মৃত্যুর উপযুক্ত শাস্তি নয়। আসল টুইস্ট টা হলো Oh Dae Su কে যে মেয়েটা সাহায্য করেছে আর তার সাথে অন্তরঙ্গ হয়েছে সেটা তার ওই ৪ বছরের বড়ো হওয়া নিজের মেয়ে। অপহরণকারী চায় তার মেয়েও জানুক সে তার বাবার সাথে এসব করেছে এবং আত্মহত্যা করুক লজ্জায়।

এবার আসি আসল কথায়। আপনাদের কমন প্রশ্ন হলো এই কাজ গুলা আমাদের সংস্কৃতির সাথে মিলে না। এগুলা অনেক সেনসিটিভ বিষয়।

দেখেন এই জায়গায় ভুল করেছেন । মানুষ সামাজিক জীব। কোনো সুস্থ সমাজ, ধর্ম ই বাবা – মেয়ে , ভাই – বোনের মধ্যে এই ধরনের সম্পর্ক মেনে নেয় না। এই মুভিতে আপনারা ভাবেন যে এই বিষয় গুলা Normalise করা হইসে। না একদম ই না। ওদের সংস্কৃতি ও এটা মেনে নেয় নাই। আর এই কারণেই মুভিটা বানানো। দেখেন অপহরণকারী আর তার বোনের মধ্যে এই সম্পর্ক টা অস্বাভাবিক। বিকৃত মানসিকতা বলা যেতে পারে। আর ওদের সমাজে এটা কিন্তু কেউ মেনে নেয় না। তাই লোকটি যখন সবাইকে জানিয়ে দেয় তখন মেয়েটি ভয়ে, লজ্জায় আত্মহত্যা করে ফেলে। এখন আসি রিভেঞ্জ প্রসঙ্গে। Oh Die Su যখন জানতে পারে সে তার মেয়ের সাথে এসব করেছে আর অপহরণকারী সেটা জানিয়ে দিতে চায় তখন কিন্তু সে না জানানোর জন্য কাকুতি মিনতি করতে থাকে। খেয়াল করে দেখবেন বক্স টা যখন খুলতে বলে তখন সে কিভাবে পায়ে পরে অনুরোধ করতে থাকে। অবশেষে সে তার জিহবা পর্যন্ত কেটে ফেলে জাস্ট একটাই কারণে যাতে তার মেয়েকে না জানায়। দেখেন এখানে কোথাও কি দেখতে পেয়েছেন যে এই ধরনের সম্পর্ক গুলাকে normalise করেছে? বা এই সম্পর্ক গুলা কে ইন্সপায়ার করেছে? না বরং তারাও এটাকে ঘৃণ্য চোখেই দেখেছে।

তাই আপাতত দৃষ্টিতে আপনার মনে হতে পারে এ ই মুভি আমাদের সমাজ বিরোধী কিন্তু আলটিমেটলি ভালো করে ভাবলে বুঝবেন এটা আমাদের সমাজকেই রিপ্রেজেন্ট করছে। যদি ওদের কাছে এটা নরমাল হতো তাহলে কিন্তু মেয়েটা পানিতে ঝাঁপ দিতো না আর মুভিটাও বানানো যেতো না।

যাই হোক এই মুভিটি যদি এখনো কারো দেখা বাকি থাকে তাহলে তাড়াতাড়ি দেখে ফেলবেন। This is a pure Masterpiece Movie.

লেখকঃ তাওহীদ হাসান।

আরও পড়ুন, জোকার মুভির বাংলা রিভিউ

My Ratings

Saikot

Always with you...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close